দেশে বিদেশে-সৈয়দ মুজতবা আলী

পঁচিশ পৃষ্ঠার মত পড়ে দেখলাম কোন যুত করতে পারছিনা। কোথা থেকে কোথা যাচ্ছেন লেখক কিছুই বুজতে পারছিলাম না। তারপর ভাবলাম বইটা যখন পড়বই ; মনমত এদিক সেদিক যাওয়ার যোগ্যতা বা অধিকার লেখক ই রাখেন। আমি যেহেতু পাঠক মানুষ তো, পেছনে আমাকেই ফিরতে হবে। আসলে লেখক এদিক সেদিক যায় নাই; ইতিহাস সম্পর্কে আমার জ্ঞান স্বল্পতাই আমাকে এমন দূরাবস্থার মধ্যে ফেলেছে।

তারপর কি করা যায়? এ নিয়ে বেশিক্ষণ না ভেবে একখানা বাংলা ডিকশনারির অ্যাপস ডাওনলোড করলাম মোবাইলে। আর গুগুল করে লেখক , ভারতবর্ষ, আফগানিস্তান আর বইটা সম্পর্কে একটু ঘাটাঘাটি করে লেখক যেভাবে কলকাতার হাওড়া স্টেশন থেকে ইয়োরোপিয়ন থার্ডে উঠলেন কাবুল ভ্রমণের উদ্দেশ্যে; আমি ও তেমন বইটা পড়ে শেষ করবো এই মনোবাসনা নিয়ে আবার পুনরায় বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠা থেকে পড়া শুরু করলাম।

কি লিখতে এসে যে কি লিখছি, তা আমিও বুজতে পারছিনা। এ ব্যাপারে আমার কিছুই করার নেই। লেখক কলকাতা থেকে ইয়োরোপিয়ান থার্ড নামক গাড়িতে উঠলেন। তারপর পেশাওয়ার হয়ে খাইবার পাস তারপর কাবুল….. লেখক অত সহজে কাবুল পৌঁছেন নাই আর লেখকের ভ্রমণ কাহিনী এতো সংক্ষিপ্ত আর নিরস ছিল না বলে দাড়ি দিলাম না। অবশ্য এমন কোন নিয়ম মনে হয় না  বাংলা ব্যাকরণে আছে, আমার এই লেখা কেউ পড়বে আবার এ নিয়ে বাংলা ব্যাকরণ ঘাঁটবে এত বড় প্রাপ্তির যোগ্য এ লেখাটি নয় বলে যা ইচ্ছে তাই লেখার সাহস করতে পারলাম।

দেশে বিদেশে বইটিকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ভ্রমণ কাহিনী হিসেবেও ধরা হয়। আর এতে আপনি পাঠানদের স্বাধীন আর আড্ডাবাজির জীবন সম্পর্কে জানতে পারবেন। আরো নানা ভাষায় নানা কবির নানা বয়ান। আর মুজতবা আলী সাহেব পনেরর অধিক ভাষায় যে পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন তার লেখায় তো তার কিছু আঁচ তো থাকবেই। লেখকের জানার বিশালতা থেকে এ লেখাকে অলকৃত করতে কবি ওমর খৈয়াম , শেখ সাদী থেকে শান্তিনিকেতনে পড়াশোনার সময় সান্যিধ্য পাওয়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাউকেই বাদ দেন নি।

কয়েকটা বিশেষ চরিত্র ছিল এ ভ্রমণ কাহিনীতে; আর সহজ সরল আব্দুর রহমানকে লেখক ফুটিয়ে তুলেছিলেন তার সাহিত্যের আল্পনায়। যেখানে আছে হাসি আনন্দ আর শেষে বিষাদ! আর এই বই থেকে একটা লেখকের একটা বিশেষ লাইন আমায় ভাবিয়ছিল, সে আমি এখানে লিখে রাখছি। প্রসঙ্গের খাতিরে লাইনটা এমন ছিল, “মায়ে মায়ে তফাত নেই। বীরের মা যেরকম ডুকরে কাঁদছে ঠিক সেইরকমই শুনেছি দেশে, চাষা মরলে”! সৈয়দ মুজতবা আলীকে বলা হয় রম্যরসে পরিপুষ্ঠ। হু আসলেই প্রবন্ধে রম্য লেখার অসাধ্য তিনি সাধন করেছেন। আমি একটু নিরস প্রকৃতির বলে এই বই পড়ে মিটমিট করে হেসেছি আপনি যদি মোটামোটি সরস হয়ে থাকেন তবে লেখকের রম্য আপনার অট্রহাসির যোগান দিবে নিশ্চিত।

বই পড়ুন, ভাল থাকুন। 🙂

Facebook Comments

Author: Neoman Nasir

I am Neoman Nasir. Studied Applied Mathematics at Noakhali Science and Technology University.

Leave a Reply